
ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই কাজ করছে বর্তমান বোর্ড। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও অন্যতম লক্ষ্য।
তামিম বলেন, ক্রিকেটারদের সম্মান করা এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোই বোর্ডের মূল উদ্দেশ্য। নিজে ক্রিকেটার থাকায় খেলোয়াড়দের ভালো-মন্দ বোঝার সক্ষমতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ক্রিকেটারদের জন্য যা করা প্রয়োজন, তা করার আশ্বাস দেন বিসিবি সভাপতি।
অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ক্রিকেটারদের বেতন বাড়িয়েছিলেন তামিম। এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ওয়ানডেতে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
নারী ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। তিন দিনের ম্যাচে পারিশ্রমিক ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্য দুই ক্যাটাগরিতে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
তামিমের দাবি, নতুন কাঠামো অনুযায়ী একজন নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটার পুরো মৌসুম খেললে বেতনসহ বছরে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। এতে হয়তো গাড়ি-বাড়ি করা সম্ভব হবে না, তবে একটি পরিবার ভালোভাবে চালানোর জন্য ক্রিকেটারদের আর্থিক দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমবে।
বিপিএল না হওয়ার কারণে ক্রিকেটারদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে শুধু এক বছরের জন্য ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়নি বলে জানান তামিম। তার মতে, এক বছরের সাময়িক সমাধানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়াই বোর্ডের লক্ষ্য। ভবিষ্যতে বিসিবির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে পারিশ্রমিক আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তবে ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও পেশাদারিত্ব প্রত্যাশা করছে বিসিবি। ফিটনেস টেস্টসহ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের পেশাদার কাঠামো আরও কঠোরভাবে মনিটর করা হবে বলে জানিয়েছেন তামিম।
বিপিএল প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি বলেন, এবারের আসর বাতিল হয়নি, স্থগিত করা হয়েছে। টুর্নামেন্টকে আরও গোছানো, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে আয়োজনের জন্য নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য কিছুটা সময় বেশি লাগলে বা সাময়িক অসুবিধা হলে সেটিকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন না তিনি।
তামিম বলেন, বিপিএলে ৫০ থেকে ৭০ জন স্থানীয় ক্রিকেটার সুযোগ পেলেও দেশের প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটার জড়িত। তাই শুধু অল্পসংখ্যক খেলোয়াড়কে সুবিধা দেওয়ার পরিবর্তে সব ক্রিকেটারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চায় বোর্ড।
পুরুষ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি নারী ক্রিকেটারদেরও সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তামিম। কর্মী, স্কোরার, আম্পায়ার, কোচ, ট্রেইনার ও ফিজিওসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিষয় পর্যালোচনা করতে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত তাদের জন্য একটি মানসম্মত বেতন কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।
বিপিএলকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক এবং রেভিনিউ মডেল তৈরির কাজও চলছে। নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি, বিদেশি বিনিয়োগ, এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।